World bank donetes for rampal
প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদনের প্রচ্ছদ, ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতাসহ নানা ধরনের কাজ করে আসছে বিশ্বব্যাংক। তবে এবার এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেই সুন্দরবন ধ্বংসকারী প্রকল্পের সাথে বিকল্পভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে! বিশ্বব্যাংকের এমন স্ব-বিরোধী কার্যক্রমের কারণে প্রতিষ্ঠানটির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন। সম্প্রতি এই সম্মলনে একটি  রির্পোট প্রকাশ করা হয়, যেখানে উঠে আসে কীভাবে ভিন্ন পথে বিশ্বব্যাংক রামপাল প্রকল্পে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি’তে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সপ্তাহ ব্যাপী চলমান বার্ষিক সম্মেলন গত ১২ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। রামপাল প্রকল্পের বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং কয়লার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুন্দরবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা বিশ্নেষণ করে প্রকাশিত রির্পোটেই উঠে আসে বিশ্বব্যাংকের যুক্ত থাকার তথ্য। ব্যাংক ইনফরমেশন সেন্টার ইউরোপ, ইনক্লুসিভ ডেভ্লোপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এবং সেন্টার ফর ফিনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেবলিটি যৌথভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে উঠে আসে কীভাবে বিকল্প পথে রামপাল প্রকল্পের সাথে বিশ্বব্যাংক যুক্ত আছে। সরাসরি কোনো বিনিয়োগ না থাকলেও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে রামপাল প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগের বিষয়টি এই অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আইএফসির প্রধানকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুন্দরবনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির সাথে ভারতের ইয়েস, এক্সিম, আইসিআইসিআই ব্যাংকসহ প্রভাবশালী ছয়টি ব্যাংক ঋণপ্রদান এবং বন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে যুক্ত। এই এনটিপিসি রামপাল প্রকল্পের ৫০ শতাংশের অংশীদার। আর অন্য ছয়টি ব্যাংকের বিশ্বব্যাংকের বেসরকারী খাতে সহায়তা দানকারী অংশ হিসেবে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের ৫২০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনকে বাংলাদেশের জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যুহ হিসেবে উল্লেখ করে নির্মাণাধীণ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ধ্বংসাত্নক প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এছাড়াও এ রিপোর্টে ভারতের অভ্যন্তরে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণের ফলে এ জাতীয় প্রকল্প বিরোধী জনমতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত সরকারের সাম্প্রতিক সময়ে নবায়ন যোগ্য জ্বালানীভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে উল্লেখ করে ভারতীয় কোম্পানীর বাংলাদেশে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্ত হবার দ্বিমুখী নীতিরও সমালোচনা করা হয়েছে।

রামপাল প্রকল্পে যুক্ত থাকার আভিযোগে বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থলগ্নিকারী একক নরওয়ে ফান্ডের বিনিয়োগ এনটিপিসি থেকে তুলে নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল প্রকল্প বন্ধে এখনও পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের কার্যকরী কোন ভূমিকা না থাকায় এর সমালোচনাও করা হয়।

আপনার মন্তব্য