অন্যকে জানাতে পারেন:

Breast cancer
ছবি: ইন্টারনেট

ডা. পলাশ বসু


১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচী। কারণ মূলতঃ সচেতনতাই পারে এ রোগ থেকে নারীকে মুক্তি দিতে।

দেশে প্রতি বছর ২২ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এদের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে আর দেরীতে সনাক্ত হওয়ার কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন ৭০ শতাংশ। এর পেছনে কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে লজ্জা, সংকোচ, পারিবারিক অবহেলা, উদাসীনতা, আর্থিক সংকটসহ নানা ধরনের বিষয়কে। তবে, মুখ্যত লজ্জা, সংকোচ এবং অসচেতনতাই আমার মনে হয় এ রোগজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে প্রধানতম বাঁধা হিসেবে কাজ করছে।

অথচ পরিসংখ্যান বলছে, একজন নারী যদি শুধূ সচেতন হন তাহলেই কিন্তু মরণ এ ব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেন। সেটা কিভাবে? উত্তর হচ্ছে, স্তনে কোনো রকম চাকা, টিউমার, ফোলা বা অস্বস্তি, স্তন হতে তরল পর্দাথ বের হওয়া— এসব দেখলেই বিন্দুমাত্র অবহেলা বা দেরী না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অযথা ঝাঁড়ফুক, গাছ-গাছড়ার চিকিৎসা বা টুটকা টাটকা নিতে গিয়ে সময় নষ্ট করা একদমই ঠিক নয়। এসব করতে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট হয়। আর সে সুযোগে ক্যান্সার ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আর তখন তা নির্মূল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

তাই অযথা সময় নষ্ট না করে স্তন ক্যান্সার শরীরের  অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সেক্ষেত্রে শুরুতেই ধরা পড়লে এ রোগ নির্মুল করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে। আর্থিক খরচও তখন অনেক কম হয়।

কিন্তু এ রোগ একবার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তা নিরাময় করা যেমন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে তেমনিভাবে খরচ খরচার পরিমানও অনেকগুণ বেড়ে যায়। ফলে শুরুতেই স্তনে যদি কোনো বিশেষ রকমের পরিবর্তন, চাকা বা অস্বস্তি ধরা পড়ে তখনই তা নির্ণয় এবং নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। তাহলে রোগ নিরাময় করা যেমন সহজ এবং  দ্রুততর হয় সেই সাথে আর্থিক খরচও অনেক কমে যায়। 

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং নিরাময়ে তাই  সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।

আপনার মন্তব্য