নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যকে জানাতে পারেন:

ছবি: সংগৃহীত

সার্বজনীন এক উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের এই দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে থাকে অনেক খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। পূজায় খাওয়ার দাওয়ার পর্বে প্রসাদের বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো। দীর্ঘ ভিড় ঠেলে মন্দিরে পৌঁছানোর পর পূজাপাঠ। সবশেষে প্রসাদ বা ভোগের জন্য অপেক্ষা। পূজার সময় মন্দিরে এধরনের ঘটনা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।

কিন্তু মন্দিরে আপনি যে প্রসাদ খান সেটা কতটুকু খাওয়ার যোগ্য বা স্বাস্থ্যসম্মত। এমন প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়েরই একজন কর্নাটকের বাসিন্দা টি নরসিমা মূর্তি। যদিও অপিরচ্ছন্নভাবে খাবার পরিবেশন করা হলেনও ওই খাবারের মান নিয়ে চিন্তাই করেনা মন্দির কমিটিগুলো।

তথ্য জানার অধিকার আইনে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন সামাজিক আন্দোলন কর্মীর টি নরসিমা মূর্তি। তিনি তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানের প্রসাদের মান নিয়ে আরটিআই করেছিলেন।

সেখানে জানা যায়, শুধু তিরুমালা তিরুপতি নয়, ভারতের প্রায় ৩০ লক্ষ মন্দির স্বজ্ঞানে একই রকম গাফিলতি করে চলেছে। খাবারের মানের বিষয়ে শাস্তি বেশ কড়া। ৬ মাসের জেল এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার নিদান রয়েছে। কিন্তু এর প্রয়োগের অভাবে মন্দির কর্তৃপক্ষগুলো বেঁচে যাচ্ছে বলে আক্ষেপ এই সামাজিক আন্দোলন কর্মীর।

নরসিমা মূর্তি বলেন, চেন্নাইতে তিরুপতি লাড্ডু নামে একটি দোকান রয়েছে। যেখানে পূজার প্রসাদ বিক্রি হয়, কিন্তু মান বেশ খারাপ। তিনি এই বিষয়ে তামিলনাড়ু আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে ওই লাড্ডুর দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক এমন প্রসাদের দোকান রয়েছে। যারা নিয়মকে তোয়াক্কা করে না। এমনকী বেশিরভাগ মন্দিরগুলি খাবারের মান সংক্রান্ত লাইসেন্স করানোর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না। যাদের আছে তারাও লাইসেন্স নবীকরণের জন্য গরজ দেখায় না। তবে তাঁর আরটিআইয়ের পর তিরুমালা তিরুপতি কর্তৃপক্ষ অবশ্য ফুড কোয়ালিটি লাইসেন্স করাতে চলেছে।

দেশের ধর্মস্থানগুলিতে প্রসাদের মান দেখার দায়িত্বে রয়েছে FSSAI। মূর্তির এই উদ্যোগের পর এই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাও দেশের বিভিন্ন মন্দিরের কাছে খাবারের মানের বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছে। ফুড কোয়ালিটি লাইসেন্স ছাড়া কারা এখনও ভক্তদের নিম্নমানের প্রসাদ দিয়ে যাচ্ছে তারও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য