অন্যকে জানাতে পারেন:

Boro-chele
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে বাংলাদেশের বিনোদনজগতে সবচেয়ে আলোচিত তরুণ নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের ঈদের নাটক ‘বড় ছেলে’। অনেকের হৃদয় নাড়িয়ে দেওয়া নাটকটিতে বড় ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অপূর্ব; আর তার প্রেমিকা চরিত্রে মেহজাবিন।

নাটকটি ইউটিউবে গত ৫ সেপ্টেম্বর আপলোড হবার পর নয় দিনের মধ্যে ৩৮ লক্ষ ৮২ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছে। বাংলাদেশের নাটক/টেলিফিল্মের ইতিহাসে এতো স্বল্প সময়ে ইউটিউবে দেখা এটি প্রথম কোনো নাটক! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বারবার দেখে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নির্মাতাসহ অভিনয়শিল্পীদের, আবার কেউ কেউ বিরক্তি প্রকাশ করে রীতি মতো ঝড় তুলে দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজের আইডির নাম বদলে ‘বড় ছেলে’ করেছেন। এমনকি নাটকটির নামে কয়েকটি ইভেন্ট পেজও খোলা হয়েছে।

বড় ছেলেদের জন্য মন কেমন করা এই নাটকটি নিয়ে ফেসবুকে যেমন অনেক ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। এসেছে নেতিবাচক দিকও। একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ গল্পকে অসাধারণভাবেই উপস্থাপন করেছেন নাটকটির নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান। তরুণ নির্মাতা হিসেবে তিনি যে নাটক নির্মাণ করেছেন সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের জন্য আশাজাগানিয়া একটি বিষয়। হয়তো তাদের মতো তরুণ নির্মাতাদের হাত ধরেই এক সময় আলোর মুখ দেখবে বাংলাদেশের বিনোদনমাধ্যম।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হওয়া আলোচনা-সমালোচনা অনেক গুরুত্ব বহণ করে। সামনে যাওয়ার পাথেয় হতে পারে নিজের মতো করে গ্রহণ করলে। ফেসবুকে গত কয়েকদিনে নাটকটি নিয়ে এতো আলোচনা হয়েছে যে, সব কথা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। ফলে নির্বাচিত কিছু পোস্ট তুলে ধরা হলো।

`বড় ছেলে‘র প্রতিক্রিয়ায় লিনা পারভিন নামের একজন ফেসবুকে তার টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘আমাদের সমাজের পোলাগুলা আর বুঝি মেরুদন্ড নিয়া দাঁড়াইতে পারলো না। এমন ভেব্দা মার্কা বড় ছেলের দরকার নাই সমাজের। আর এমন আকাইম্মা প্রেমিকারও দরকার নাই প্রেমিক সমাজের। আজকাল কেউ এমন ভোদাই মার্কা পোলা বা মাইয়া হয় না। নাটকের মাধ্যমে যখন হিরু'ই বানাইবেন তো একটু মেরুদন্ডওয়ালা কাউরে দেখান প্লিজ। অনলাইনেও আজকাল ইনকামের সুযোগ আছে। এই বড় ভাইরে কেউ মোটিভেশনাল স্পীকারদের ক্লাসের ঠিকানা দিয়ে দেন। অনেকেই অন্ট্রাপ্রেনিউর হবার ট্রেনিংও দিচ্ছে। এই ব্যাটা এখনও এনালগ যুগের যুবক রয়ে গেছে। এরে কেউ আধুনিক হবার লাইন দেখান।’

ওই পোস্টে তিনি আরো লিখেছেন, ‘… যেখানে বাংলাদেশের তরুণরা এখন কেউ আর মিয়ার চাকরীজিবী হইতে চায় না, অন্ট্রাপ্রেনিউর হবার স্বপ্ন দেখে সেখানে এমন একজন তরতাজা ব্যাটায় চাকরীর জন্য ৭০ দশকের স্টাইলে হাতে সার্টিফিকেট নিয়া বাপের ছাত্রের কাছে গিয়া অপমানিত হয়। বোগাস সব। এখন প্রাইভেট চাকরীর জন্য ভাইভাতে কেউ সার্টিফিকেট চেক করে না।’

পোস্টের শেষ দিকে লিখেছেন, ‘ … কইলে বহুত কথা কইতে হয়। তবে এমন দিনের পর দিন দেখানির মত নাটকও না এই জিনিষ। কেবল কান্না দেখার জন্য এই নাটক দেখার কোন মানে হয় না। জাগো তরুণ সমাজ জাগো। তোমাদেরকে অকালকুষ্মান্ড বানানোর এক হীণ চেষ্টা এইটা।’

এনায়েত উল্লাহ নামের একজন লিনা পারভিনের পোস্টে কমেন্টে করেছেন, ‘আহারে! এইযুগে এইরকম বড় লোকের মেয়ে ১০ টাকা বাদাম কেনা পোলার জন্য কান্দে, দেইখাও শান্তি।’

মেহেদী হাসান রুবেল নামের একজন তার পোস্টে লিখেছেন, "বড় ছেলে" নাটক দেখে কি বুঝলেন?? -বুঝলাম, বাড়ির বড় ছেলেদের প্রেম করতে নেই, করলেই ছ্যাকা ...’

তবে সব পোস্ট বা কমেন্টই যে নেতিবাচক হিসেবে দেওয়া হয়েছে সেরকমও না। অনেকে নাটকটির বেশ প্রশংসাও করেছেন।

`ভদ্র ছেলে’ নামের একজন লিখেছেন, `সত্যিই বড় ছেলে নাটক টা না দেখে বুঝতে পারতাম না ভালোবাসা কি জিনিস ... একমাএ ঘরের বড় ছেলেরাই পারে যে নিজের সুখ বিলিন দিয়ে পরিবারের সুখ অটুট রাখতে। এরকম বড় ছেলে যেনো বাংলার ঘরে ঘরে জন্মায় …’

সৌরভ ইশতিয়াক নামের একজন লিখেছেন, `বড় ছেলে নাটক নিয়ে অনেকেই ট্রল করতেছে ... সিরিয়াসলি? একজন নাটকে ভুল ধরছে, আরেকজন এটা না করে ওটা করলে ভালো হতো, এটা কেনো ওটা কেনো হ্যান ত্যান, হাবিজাবি ত্যানা প্যাচাইতেই আছে.. আচ্ছা এটা একটা নাটক, ওকে? শুধুই নাটক.. ডাক্তারের দেয়া প্রেসক্রিপশন ধরে ধরে ঠিক অই দাওয়াই টাই দিতে হবে এমন কোনো ব্যাপার না.. আপনি যেভাবে ভাবছেন ওটা বাস্তবেও হবেনা সবসময়…’

`অশ্রু ভেজা ভালোবাসা’ নামের একজন লিখেছেন, `বড় ছেলে নাটক সম্পর্কে কিছু না বললে নিজেকে বড় নিষ্ঠুর আর অকৃতজ্ঞ বলে মনে হবে।তাই কিছু বলতে হচ্ছে।যদিও বড় ছেলে নাটক টা একটা অভিনয় জগৎ তবুও মানতে হচ্ছে যে অভিনয় এত বাস্তবমুখী বা বাস্তবতাকে ছুঁয়ে যেতে পারে তা আমার জানা ছিলো না। আমাদের জীবন হলো বাস্তবতার মডেল। যেখানে আমাদের প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার জন্য অভিনয় করতে হয়।কিন্তু তাতে থাকে বাস্তবতার ছোঁয়া।আমাদের জীবনপথই একটা নাটক যা ফুটে উঠেছে "বড় ছেলে" এর মাঝে। …’

তিনি আরো লিখেছেন, `আমি অপূর্ব আর মেহজাবিন কে দেখিনি কিন্তু তাদের অভিনয়ের মাঝে বাস্তবতাকে দেখেছি।যদিও মেহজাবিন এর মতো অনেকের কষ্টটা হৃদয় বিদারক হলেও বাড়ির বড় ছেলেদের এমনই হওয়া উচিত।’

লিনা পারভিনের পোস্টে সুব্রত অধিকারি নামের একজন কমেন্ট করেছেন, ‘পরিচালক একটা কনসেপ্ট দিতে চেয়েছেন যার বেসিক হল পরিবারের বড় সন্তানের সংগ্রাম! সংগ্রামে সার্থক হতেই হবে এই কনসেপ্ট নাটকের পরিচালক ক্রিয়েট করেন নি! তো ভাল কথা, তবে ক্রিয়েট করতে পারতেন! এতে দর্শক উপকৃত হত অনেক বেশি।কিন্তু যারা এই নাটক দেখাকে সময় অপচয় ভাবছেন, এরা ভুলে আছেন।’

একই পোস্টে মো. মাহবুব আলম নামের একজন কমেন্ট করেছেন, ‘মুগ্ধ হয়েছি। এক্সসেলেন্ট নাটক/ মুভি’

আপনার মন্তব্য