বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

Home minister of India
ফাইল ছবি

অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ১০ হাজার বৌদ্ধধর্মাবলম্বী চাকমাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। আজ বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে এক সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তবে কেন্দ্র সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অরুণাচল রাজ্য সরকার।

ভারত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময় নিল যখন দেশটি মিয়ানমার সরকার ও স্থানীয় বৌদ্ধধর্মালম্বীদের সহিংসতার শিকার হয়ে ভারতে পালিয়ে আসা প্রায় ৪০ হাজার শরণার্থী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মিয়ানমার সফরও করেছেন।

অন্যদিকে অরুণাচল রাজ্য থেকে আসা ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘তাদেরকে কংগ্রেস অরুণাচলে স্থানীদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। এটা তাদের সবচেয়ে বড় একটা ভুল ছিলো। তাদের অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত ছিলো।’ আজ এক সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় না দেওয়া প্রসঙ্গে ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে রোহিঙ্গা অভিবাসন নিয়ে। কারণ তারা ভারতে নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।’

এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের উচ্চ আদালত চাকমাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখনও অরুণাচল রাজ্য সরকার সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে।

১৯৬০ সাল থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে চাকমারা পালিয়ে আসতে থাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে। তারা ভারতের অরুণাচল প্রদেশসহ ত্রিপুরা, আসাম, মিজুরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে আশ্রয় নেয়। চাকমারা বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল ও মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলেও আশ্রয় নিতে থাকে। আসাম হয়ে আসা এইসব শরণার্থীদের সংখ্যা ১৯৬৪-৬৯ সালে ছিলো ৫ হাজার, বর্তমানে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ। এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের মধ্যে চাকমাসহ হাজংরাও (এরা হিন্দুধর্মাবলম্বী) রয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি

আপনার মন্তব্য