rohinga-people
শতবর্ষী দাদিকে লুঙ্গিতে বেঁধে পিঠে নিয়ে পথ পাড়ি দিয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক রহিমুল্লাহ, ছবি : সংগৃহীত

অারাকান রাজ্যের রাসিডং উপজেলার জোহারাং গ্রাম থেকে আসা রোহিঙ্গা যুবক রহিমুল্লাহ নৌকায় নাফ নদী পার হয়েছেন দাদির নাকফুল দিয়ে। টাকার অভাবে নদী পার করে দিচ্ছিল না মাঝি। তাই নৌকা পারের বাকি টাকা না থাকায় বড় ভাই সাহাবুল্লাহর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ওপারেই রেখে এসেছেন তারা। নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে শতবর্ষী দাদিকে লুঙ্গিতে বেঁধে পিঠে নিয়ে পথ পাড়ি দিয়েছেন এ রোহিঙ্গা যুবক।

এই যুবক জানান, বৌদ্ধ মগেরা সব জ্বালিয়ে দিয়েছে। গ্রামের বহু যুবককে হত্যা করেছে বৌদ্ধ অার সেনারা মিলে। ঘর জ্বালানোর অাগে লুট করেছে সব। তরুণীদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। মগদের ছোঁড়া তীরের অাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বড় ভাইয়ের অাট বছরের ছেলের। জীবন বাঁচাতে কয়েকটি গরু সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপারে এসে পৌঁছান মঙ্গলবার সকালে।

পানির দরে গরুগুলো বিক্রি করে নৌকার ভাড়ার ব্যবস্থা করেন এই যুবক। তাতেও ভাড়ার টাকা সংকুলান হয় না তাদের। পরে দাদির নাকফুল খুলে মাঝির হাতে তুলে দিলে নৌকা নদীতে ভাসান। তবে অারও টাকার অভাবে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে সঙ্গে অানতে পারেননি। ওপারে অপেক্ষারত অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রাত পার করবেন সাহাবুল্লাহর স্ত্রী। বাংলাদেশে এসে ভাড়ার টাকার ব্যবস্থা করে অাবার স্ত্রীকে অানতে যাবেন সাহাবুল।

বৌদ্ধদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রহিমুল বলেন, ঈদের অাগে থেকে পালিয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, রক্ষা পাবো। তা অার হয়নি। সব জ্বালিয়ে দিল। গ্রামের অসংখ্য যুবককে হত্যা করা হল। হত্যা করা হয়েছে অামার অাট বছরের ভাতিজাকেও।  

ছেলের মৃত্যুর কথা মনে পড়ায় দুই গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল রহিমুল্লাহর ভাই সাহাবুল্লার। তিনি বলেন, ‘কোলের ধনকে এভাবে রেখে অাসতে হবে ভাবিনি। ওকে মাটি চাপাও দিতে পারিনি।’

আপনার মন্তব্য