বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

gangrape-in-india
প্রতীকী ছবি

সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়ায় এভাবে ‘শাস্তি’ এ ভাবে পেতে হবে, তা কখনই ভাবেননি ভারতের বীরভূমের সাঁইথিয়ার এক গৃহবধূ! প্রথমে গণধর্ষণ এবং পরে তাঁর যৌনাঙ্গে কাচের ভাঙা বোতল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই গৃহবধূ সাঁইথিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এর সঙ্গে জড়িত আরো দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, সাঁইথিয়া পুর এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার স্বামী দীর্ঘ দিন ধরেই রাজ্যের বাইরে থাকেন। বর্তমানে তিনি জম্মু-কাশ্মীরে রয়েছেন। বছর ১৪-র মেয়ে এবং ৯ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে ওই গৃহবধূ বাড়িতে থাকেন।

কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন তিনি। বছর চারেক আগে তাঁর সঙ্গে একই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পুলিশকে ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবেন। গত সপ্তাহে সে কথা তিনি ওই যুবককে জানাতেই সমস্যার সূত্রপাত শুরু হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার রাতে তারক ভাস্কর নামে ওই যুবক সাঁইথিয়া পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ডেকে নিয়ে যায় তাকে। তার পর সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। কিন্তু, লোকলজ্জার ভয়ে ওই গৃহবধূ এ বিষয়ে পুলিশকে কিছু জানাননি।

তবে, বাসস্ট্যান্ডের বেশকয়েক জন যুবককে তিনি ধর্ষণের কথা বলেন। তার পরেই ওই যুবকেরা তারককে মারধর করে। এর পরেই ‘ক্ষেপে’ যায় ওই যুবক। গত শনিবার সকালে ওই গৃহবধূকে তিনি হুমকি দেন, ‘‘একা ধর্ষণ করেছি, এ বার গণধর্ষণ করব!’’

কিন্তু, হুমকি যে বাস্তবের চেহারা নেবে সে কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি ওই গৃহবধূ। পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগ করেছেন, রবিবার রাতে তিনি ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ হঠাত্ই তাঁর ঘরের দরজার খিল ভেঙে ঢুকে পড়ে তারক এবং তার দুই বন্ধু। এর পর ছেলেমেয়েকে খুন করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর মুখে কাপড় ঢুকিয়ে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন জন মিলে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।

শেষে বিয়ারের একটি ভাঙা বোতল তাঁর যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তার পর সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে ওই তিন জন।

যন্ত্রণায় চিত্কার করে কাতরাতে থাকেন ওই গৃহবধূ। কাঁদতে থাকে তাঁর ছেলেমেয়েও। চিত্কারের সেই আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরাই সাঁইথিয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়।

ওই গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তারককে গ্রেফতার করে। তিনিও বিবাহিত। তাঁর দু’টি ছেলেমেয়ে রয়েছে। তারককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ তার বাকি দুই বন্ধুর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

আপনার মন্তব্য