অন্যকে জানাতে পারেন:

twintower attrack
ফাইল ছবি

৯/১১ হামলার ১৬তম বর্ষপূর্তি আজ৷ সেই ভয়াবহ দিনটির কথা ভুলতে পারেনি কেউই৷ সেই কালো দিন আজও যেন স্পষ্ট৷ ৯/১১ জঙ্গি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারিয়েছিল কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ৷

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ ১৬ বছর আগের ঠিক এই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চালানো হয়েছিল আত্মঘাতী বিমান হামলা৷ মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ৯টার দিকে চালানো হয় এ হামলা৷

২০০১ সালের এ দিনটিতেই আমেরিকার রাজধানী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই মহানগর ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় একই সময় চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত তিন হাজার মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল। নষ্ট হয়েছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ ও অবকাঠামো।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দাই ওই হামলাগুলোর পেছনে সক্রিয় অবদান রেখেছিল বলে বেশ শক্ত মতবাদ প্রচলিত আছে। এই মতবাদের বিপরীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অনেক কথা উঠলেও ওই ৯/১১-এর হামলার পেছনে সাবেক আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের অবদানের বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

১৯ জন আল কায়দা সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বেসামরিক বিমান ছিনতাই করেছিল সেদিন।

ছিনতাই করা বিমানগুলোর মধ্যে মার্কিন বিমান সংস্থার দুটি বিমান নিয়ে সরাসরি হামলা চালানো হয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার' খ্যাত নিউইয়র্কের সুউচ্চ সাউথ টাওয়ার' ও  নর্থ টাওয়ার' ভবনে।

মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে বহুতল ভবন দুটো। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের হামলা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন দুটো মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে যেতে সময় নিয়েছিল মাত্র দুই ঘণ্টা!

ছিনতাই করা আরেকটি বিমান নিয়ে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান কার্যালয় ও বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত স্থান পেন্টাগনে হামলা চালানো হয়। এতে পেন্টাগনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া আরেকটি বিমান নিয়ে ওয়াশিংটনে হামলার চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি ছিনতাইকারীরা। বিমানটির যাত্রীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ওই হামলা ব্যর্থ হলেও নিজেদের শেষ রক্ষা করতে পারেননি যাত্রীরা। তাদের নিয়েই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে।

সুপরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা হয়েছিল সেদিন। ধর্মের নামে মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় চারটি বিমানের ২২৭ জন যাত্রীসহ তিন হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষের প্রাণের স্পন্দন থামিয়ে দিয়েছিল এ হামলা।

আমেরিকার অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও দিনটি কম ভয়াবহ নয়। যথাক্রমে ৩৪৩ জন ও ৭২ জন সহকর্মীকে সেদিন হারিয়েছিল সংস্থাগুলো।

ঘটনার পরপরই সন্দেহের তীর আল কায়দার ওপর গিয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে নির্মম হামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় অস্বীকার করলেও ২০০৪ সালে হামলার দায় স্বীকার করে নেন আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন।

বিন লাদেন অভিযোগ করেন ফিলিস্তিনের বেসামরিক নিরীহ জনগণের ওপর শুধু 'মুসলমান হওয়ার অপরাধে' ইসরাইল আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং এই কাজে ক্ষুদ্র আয়তনের দেশটিকে আমেরিকা সরাসরি সহায়তা করছে; মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সৌদি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা; ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা মুসলিম বিশ্বের ওপর পশ্চিমাদের আগ্রাসনের প্রতিবাদেই প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে বলে হুঙ্কার ছাড়েন লাদেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' ঘোষণা করে আমেরিকা আল কায়দার শরিক ইসলামপন্থী আরেকটি সংগঠন তালেবানকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়।

আর দীর্ঘ কয়েক বছর পলাতক থাকার পর মার্কিন বাহিনীর হামলায় ২০১১ সালের মে মাসে নিহত হন বিন লাদেনও।

পশ্চিমাদের আগ্রাসনের বিরোধিতা করার জন্য কিংবা ইসলামের সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাস কোনো পথ নয় এমনটাই বিশ্বাস বিশ্বের তরুণদের। তাই সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে আরো দৃঢ় করতে ৯/১১ এখন একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে সবার কাছেই।

আপনার মন্তব্য