বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

Message to the world from Jashim, a Rohingya
১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু জসিম, ছবি : আলজাজিরা

জসিম। স্বপ্ন ছিলো শিক্ষক হবে। তার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে যে ভালো করে পড়া শুনা করতে হবে সে বিষয়টি নিজেই উপলব্ধি করেছে ১২ বছরের রোহিঙ্গা এই শিশুটি। শুধু কি তাই, পুরো বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে হলে যে তাকে ভালো ইংরেজিও জানতে হবে এটাও জানতো জসিম। তাই ইংরেজি শেখার দিকেও তার আগ্রহ ছিলো। কিন্তু সেই সব সপ্ন আজ ধূলিস্যাৎ হতে বসেছে। রোহিঙ্গা জসিম এখন শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশ সিমান্তে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরায় দেয়া এক সাক্ষাতকারে সেনা নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী শিশু জসিম এ কথা বলেন। 

নিজ ভূমি ছেড়ে পালিয়ে আসা জসিম ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “সেনাবাহিনী যখন আমাদের গ্রামে ঢুকল, আমরা তখন ভয়ে পালাচ্ছিলাম। সেনাবাহিনীর ১০০ থেকে ২০০ সদস্যের একটি দল আমাদের ওপর হামলা করে। তারা আমাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে এবং আমাদের অনেক ঘরবাড়িতে আগুন দেয়। আমরা প্রথমে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। এরপর আমরা বাংলাদেশের দিকে হাঁটা শুরু করি। প্রায় ১৩ দিন আমরা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে আসি।” 

জসিম এই ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের এই যাত্রাটি বেশ কষ্টের ছিল। কখনো বড় পাহাড় বয়ে উপরে উঠতে হয়েছে। আবার অনেক ছোট ছোট নদীও পাড়ি দিয়েছি এই সময়। আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হতো। আমার মনে হচ্ছিল, সেনাবাহিনী হয়তো আমাদের পিছনে পিছনে আসছে। এখনই হয়তো গুলি করবে। বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশের সময় আমরা আরো বেশি সতর্ক ছিলাম। এই জন্য যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মাটিতে বোমা পুতে রেখেছিল। আমাদের গ্রামটা আর নেই। কিছুই আনতে পারিনি আমরা সেখান থেকে। আমি আমার মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছি। বাবা পরে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো খবর আমরা জানি না। বাবাকে যদি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে যায় অথবা পুতে রাখা বোমায় বাবা পা দেয়। এই নিয়ে আমি খুব চিন্তিত।”

নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে জসিম বলেন, “আমি সারা বিশ্বকে একটি বার্তা দিতে চাই, আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। যদি আমাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাহলে আমরা খুবই আনন্দিত হব।”

আপনার মন্তব্য