নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যকে জানাতে পারেন:

ছবি: সংগৃহীত

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এককালীন প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি। তিনি জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। অপরদিকে রাজনীতি না করেও সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বৈরশাসক ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা ইসলাম এখন জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে বেশ আলোচিত।

আলোচিত-সমালোচিত অসম বয়সী রোমান্টিক জুটি হয়েছিলেন তারা। ভালবেসে ঘরও বেঁধেছিলেন। বয়সের বিস্তর ফারাক গুটিয়ে দু’জন দু’জনের প্রতি ভাললাগা ও ভালবাসার অনুভূতির কথা তখন প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন। তাদের ঘরে আছে এক ছেলে সন্তান। আবার হঠাৎ করেই দুজনের ঘর ভেঙ্গেছিল বিস্তর কাঁদা ছোড়াছুড়িতে। তালাক হয়েছে দুজনের অনেক আগেই।

সম্প্রতি এরশাদ-বিদিশার যোগাযোগ আরও গভীর হয়েছে এবং জাতীয় পার্টি না করেও দলের অনেক সিদ্ধান্তে বিদিশার পরামর্শ নিচ্ছেন এরশাদ। জাপা চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক ভারত সফরকে ঘিরে দলটিতে বিদিশা ইস্যু আরও বেশী আলোচিত হচ্ছে। এরশাদ-বিদিশার একাধিক ঘনিষ্ঠজন ও জাতীয় পার্টি সূত্রে এরশাদের সাবেক গৃহিণী ও আলোচিত বিদিশা সম্পর্কিত এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত মাসে এরশাদের ভারত সফরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বিদিশা। এমনকি ভারতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে বৈঠকের আয়োজনও হয়েছে বিদিশার মধ্যস্থতায়। পর্দার আড়ালে থাকলেও ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে বিদিশার সব সময়ই যোগাযোগ ভাল। চলতি বছর বিদিশা অসংখ্যবার ভারত গিয়েছেন।

অন্যদিকে এরশাদও চলতি বছর সরকারি ও ব্যক্তিগত সফরে কয়েক মাস পরপরই ভারত সফরে গিয়েছেন। এবারও ভূটান থেকে আকস্মিক ভারত সফরে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ছেলের সূত্র ধরে ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কের মাঝে এরশাদ- বিদিশার যোগাযোগ শুরু হলেও তা এখন অনেক দূর গড়িয়েছে। জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, এরশাদ-বিদিশা দুজনেরই ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রাজনীতির ভবিষ্যতের হিসাব নিকাশ চলছে।

এর আগে গত বছর জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) অংশের হাল ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বিদিশা। এরশাদের পরামর্শে শেষ পর্যন্ত তিনি তা করেননি। এরপর থেকে এরশাদ-বিদিশা জুটি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে একসাথে কাজ করছেন। তাই অনেকেই বিদিশাকে এরশাদের উপদেষ্টা হিসাবেই দলে দেখছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিদিশা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এসব আমাকে জিজ্ঞেস না করে এরশাদ সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন। আমি কিছু বলবো না। রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি সময়ই বলে দিবে।’

এরশাদের ভারত সফরের সময় সেখানে অবস্থান করে কি ভূমিকা রেখেছেন জানতে চাইলে তারও কোনও জবাব দেননি বিদিশা। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার  বলেন, ‘সব বোগাস কথা। বিদিশার দলে কোনও ভূমিকা নেই।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে এমন মনে করে যে জাতীয় পার্টিতে যা হচ্ছে সবই বিদিশার পরামর্শে। এরশাদ সাহেবের সাথে উনার যোগাযোগ আছে, থাকাটাই স্বাভাবিক। সব বিষয়ে কথাও হয়। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে কি ভূমিকা থাকবে?’

আপনার মন্তব্য