বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

rohingya
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি গুরুতর মানবিক প্রশ্ন হিসেবে দেখলেও এই সমস্যায় এশীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মূলত জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে সম্প্রতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর গতানুগতিক দমন অভিযান থেকে বর্তমান সংকটের সৃষ্টি।

পশ্চিমা দেশগুলো হয়তো মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে পাল্টা-আক্রমণ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। এই আক্রমণের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের ওপরে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।

কিন্তু, ইসরাইল ও ভারত এই “সন্ত্রাসীদের সৃষ্ট সহিংসতা”র বিরুদ্ধে মিয়ানমারের লড়াইকে জোরালোভাবে সমর্থন দিচ্ছে। অং সাং সু চির সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এই সমর্থন খুবই প্রয়োজন। কারণ দেশটির নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় – প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্ত সুরক্ষা – সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরাইল। মিয়ানমার সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে বলে মানবাধিকার গ্রুপগুলোর অভিযোগ। কিন্তু, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয় “বিষয়টি পুরোপুরি কূটনৈতিক।”

টিএআর আইডিয়াল কনসেপ্টস-এর মতো ইসরাইল সমরাস্ত্র কোম্পানিগুলো রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালানোর জন্য মিয়ানমারের বিশেষ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ পর্যন্ত দিয়েছে। এই রাজ্যেই মূলত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চলছে।

মানবাধিকার গ্রুপগুলোর অভিযোগ, মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে ব্যবহারের জন্য দেশটির কাছে ইসরাইল ১০০ ট্যাংক, সামরিক সরঞ্জাম ও নৌযান বিক্রি করেছে।

“অভ্যন্তরিণ নিপীড়নের কাজে ব্যবহার করতে পারে এমন সরঞ্জাম” মিয়ানমারের বিক্রির ওপর ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন রয়েছে। যেসব দেশ “বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনে লিপ্ত হয় বা প্রশ্রয় দেয়” সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্র ওই আইন ব্যবহার করে।

তাই বলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ – কেউই মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে সহায়তা দান থেকে ইসরাইলকে বিরত রাখতে পারে না।

রোহিঙ্গা জঙ্গিদের নিজের জন্যও হুমকি বলে ইসরাইল মনে করে। কারণ, এদের কিছু মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থী গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করছে।

ইসরাইলের কট্টর ইহুদিবাদী ও ভারতের কট্টর হিন্দুবাদী গ্রুপগুলো এখন মিয়ানমারের কট্টর বৌদ্ধ গ্রুপগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে।

আর এ কারণেই ইসরাইলের মহান বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার মিয়ানমার সফরে গিয়ে সেদেশের সেনাবাহিনীর প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন এবং সমরাস্ত্র ও প্রশিক্ষণসহ সবধরনের সামরিক সহযোগিতা দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকার করে এসেছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা তাতমাদোকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ভারতের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। শিগগিরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিট সেখানে স্টেশন স্থাপন করবে। এছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যেসব অফিসার ও সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে তাদেরকে ভারতের বেলগাউমকে কমান্ডো ট্রেনিং স্কুলে পাঠানো হবে।

ভারত রাখাইন সংকটের সুযোগে সাগাইং এলাকায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিদ্রোহীদের ঘাঁটিগুলো নিশ্চিহ্ন করতে মিয়ানমার সেনবাহিনীকে কাজে লাগাতে পারে । ২০০৩ সালে ভুটান ও ২০০৯-১০ সালে বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ হয়ে এসব গ্রুপ মিয়ানমারের ওই এলাকায় গিয়ে ঘাঁটি গাড়ে।

তবে মোদি ও তার দল বিজেপি যে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা বাড়াতে চায় না তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে। অরুনাচল প্রদেশের দালাই লামার সাম্প্রতিক বিতর্কিত সফরের আয়োজক ভারতের জুনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খিরেন রিজুজু মোদি’র মিয়ানমার সফরের আগে ঘোষণা করেন যে ভারতের মাটি থেকে রোহিঙ্গাদের বহিষ্কার করতে তার সরকার বদ্ধপরিকর। ভারতে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ হাজার অনিবন্ধিত ও ১৫ হাজার জাতিসংঘের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে।

বিজেপি ও সমমনা দলগুলোর জন্য মাঝে মধ্যেই মুসলিমদের ওপর চোটপাট করে তাদের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মৌলিক ভিত্তিগুলো চাঙ্গা করার প্রয়োজন হয় — এ কারণেই গো-মাংস বিরোধী প্রচারণা, তিন-তালাক বিরোধী প্রচারণা (ভারতীয় মুসলিম নারীদের একাংশ অবশ্য এর সমর্থক)। কিন্তু বিজেপি এখন ‘বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের’ বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বলা ক্ষ্যান্ত দিয়েছে। কারণ, ঢাকাকে শক্তিশালী মিত্র বলে দিল্লি মনে করে। তাই গেরুয়া গ্রুপ এখন রোহিঙ্গা-বিরোধী ইস্যুটিকে বেছে নিয়েছে। এতে শুধু হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ভিত্তি নতুন করে প্রাণশক্তি পাবে না, মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী ও বৌদ্ধ চরমপন্থী গ্রুপগুলো এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাতমাদোর সঙ্গেও সম্পর্ক উষ্ণ হবে।

ভারতের মতো বাংলাদেশও রাখাইন সংকটের চরম অবনতি দেখতে চায় না। কারণ, এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা এসে এই জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়া সীমিত সম্পদের দেশটিতে ভীড় জমাবে।

ভারত ও ইসরাইলের পাশাপাশি শেখ হাসিনা সরকারও রাখাইনে ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর উত্থানের আশংকার ভীত। এটা শুধু বাংলাদেশের নব্য-জেএমবি’র সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’র সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কের কারণে নয়। কারণ, বাংলাদেশের বিরোধী দল রোহিঙ্গা ইস্যুটিতে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের জন্য পুঁজি করতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রোহিঙ্গাদের সমর্থনে সরব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দানের পক্ষে।

‘ইসলামিক রিপাবলিক অব নর্থ আরাকান’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ১৯৭৭-৭৮ সালে রোহিঙ্গারা যে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিলো তারপর এই প্রথম তারা বিদেশ থেকে সমর্থন পেলো।

রাখাইন ইস্যুতে এ পর্যন্ত চীন নীরব। কিন্তু দেশটি তার সিনকিয়াং প্রদেশে উইঘুর সমস্যার কারণে ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে একইরকম উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারে কাইয়ুকফায়ু বন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এবং ইউনান থেকে রাখাইন পর্যন্ত তেল-গ্যাস পাইপলাইনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের স্বার্থ রয়েছে। তাই তারা মিত্রদেশ পাকিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে নির্বিচার হত্যা, নির্যাতন চালাচ্ছে এমন অভিযোগে মুসলিম দেশগুলোতে রোহিঙ্গাদের প্রতি তীব্র সহানুভুতি সৃষ্টি হচ্ছে।

মুসলিম বিশ্বে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যাকে প্রতিযোগিতামূলক চরমবাদ হিসেবে অভিহিত করা যায়। এই প্রতিযোগিতায় তুরস্ক রোহিঙ্গা ইস্যুটিতে সৌদি আরবকে হটিয়ে নেতৃত্ব নেয়ার চেষ্টা করছে।

কিন্তু একদিকে মিয়ানমারকে সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে ইসরাইল, ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিজ্ঞা (মিয়ানমারকে যৌথ সেনা অভিযানের প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা), অন্যদিকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর তীব্র ক্ষোভ — স্পষ্টতই যুদ্ধের একটি সীমারেখা টেনে দিয়েছে।

ভণ্ডামির চূড়ান্ত দেখিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো – এসব দেশের মানবাধিকার গ্রুপগুলো গলা ফাটিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে গণহত্যা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করছে। কিন্তু ওইসব দেশের সরকার মিয়ানমারকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে তাদের কৌশলগত মিত্র ইসরাইল ও ভারতের ওপর কোন রকম প্রভাব বিস্তারে অপারগ।

সম্প্রতি ইয়াংগুনে সৌদি রাষ্ট্রদূত আমাকে বলেছেন যে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাদ দিলে মিয়ানমারে মুসলমানদের অবস্থা ইউরোপের চেয়ে ভালো। এ বছর সাড়ে চার হাজার মুসলমান মিয়ানমার থেকে হজে¦ গিয়েছে। গত বছর ৩,৮০০ জনকে হজে¦ যাওয়ার ভিসা দেয়া হয়েছিলো। এদের মধ্যে বাদশাহ সালমানের বিশেষ অতিথি ছিলেন ১০ জন।

মিয়ানমার সম্পর্কে প্রচুর অন্তর্দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতার অধিকারী বার্টিল লিন্টনার উল্লেখ করেন যে পশ্চিমা ও মুসলিম বিশ্ব বার্মার মুসলমানদের জন্য প্রায়ই বড় রকমের সমস্যা তৈরি করে। কারণ, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এদের করার কিছুই নেই।

ইয়াংগুনে সম্প্রতি আমার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় লিন্টনার বলেন, “পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলোর বর্ণনায় প্রচুর বিকৃতি রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা ও বার্মার মুসলমানদের এক করে দেখানো হয়। তাহলে আমাকে বলুন, সাংবিধানিক আইনজীবী কু নি’র খুন হওয়ার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কি সম্পর্ক ছিলো। তিনি ছিলেন একজন বার্মিজ মুসলিম। তাকে হত্যা করা হয় তার রাজনীতির জন্য, ধর্মের জন্য নয়।”

ইয়াংগুন ইনডোর স্টেডিয়ামে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি’র আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আমি ফুটফুটে দুই বার্মিজ মুসলিম বোন হাসিনা ও হালিমাকে হাত তালি দিতে দেখেছি। এদের কাছে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা আলাদা — তারা বাংলাদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদের মতো।

তাই মিয়ানমারের সরকারি ভাষ্যে রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাঙ্গালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সে হিসেবে এআরএসএ একটি বাঙ্গালী সন্ত্রাসী সংগঠন, তাই বাংলাদেশ সরকারে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

মিয়ানমারের সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এআরএসএ’কে একটি ‘ইসলামী সন্ত্রাসী গ্রুপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশী সন্ত্রাসী’ বলা হয়নি। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কঠোর প্রতিবাদের আশংকা ছিলো।

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জেএমবি, এবিটি ও হুজি’র মতো বিভিন্ন ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গ্রুপের শিকার। তাই রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাঙ্গালী’ বলা এবং এআরএসএ’কে ‘বাঙ্গালী সন্ত্রাসী’ বলে চালানো সত্যের অপলাপ মাত্র।

বিশ্ব যখন মরিয়া হয়ে মিয়ানমারের আচরণের বিরুদ্ধে তীব্রস্বরে চিৎকার করছে তখন রাখাইন সংকট নিরসনে প্রতিদেশীদের সমর্থন পেতে মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তাদের এসব স্পর্শকাতর আঞ্চলিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে আরো বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।

এরপরও একটি প্রশ্নের উত্তর বাকি থেকে যায় – রাখাইন সম্পর্কিত আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে অং সাং সু চি একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করার মাত্র একদিনের মাথায় ২৫ আগস্ট পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা শিবিরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ‘এআরএসএ’ কার স্বার্থে কাজ করেছে? এই সুপারিশমালা বাস্তবায়িত হলে এ মুহূর্তে রোহিঙ্গারা প্রত্যাশিত সবচেয়ে ভালো ফল পেতো। এআরএসএ বেশ কার্যকরভাবে মিয়ানমারের ওই উদ্যোগ নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, রাখাইন আলোচনা এখন মিয়ানমারের নিরাপত্তা চিন্তার দিকে ঘুরে গেছে। বিষয়টি নানা রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

(সাউথএশিয়ান মনিটর থেকে)

আপনার মন্তব্য