বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

US aircraft
ছবি: সংগৃহীত

রোববার হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমেরিকাকে আরও একবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এটাই তাদের সবথেকে শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা কী করবে? হামলা চালাবে উত্তর কোরিয়ার ওপর? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাব, উই’ল সি।

রোববারের পরীক্ষার মাধ্যমে পিয়ং ইয়ং ফের বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আমেরিকার যেকোনো জায়গায় হামলা চালাতে সক্ষম। ট্রাম্প জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে আসার পর এটাই তাদের প্রথম পরমাণু পরীক্ষা। ট্রাম্প এর আগে একের পর এক টুইটে বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে তোষণের চেষ্টা অর্থহীন কারণ তারা শুধু একটা জিনিসই বোঝে। এর বেশি কিছু বলেননি তিনি। তবে বৈঠক করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে।

উত্তর কোরিয়ার ফাটানো বোমার শক্তি ঠিক কতটা ছিল, তা এখনো মাপা যায়নি। তবে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এর আগে পিয়ং ইয়ং যে পাঁচটা পরমাণু পরীক্ষা করে সেগুলোর থেকে গতকালের বিস্ফোরণে যে কৃত্রিমভাবে ভূমিকম্প হয়, তার শক্তি অন্তত ৫-৬ গুণ বেশি ছিল। চীন ও রাশিয়ার বহুতলেও এর ফলে কাঁপন ধরে বলে খবর।

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ারে হুঁশিয়ারি দেন, যে পিয়ং ইয়ং কোনোরকম কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করলে তার জবাব দিতে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ তৈরি। যদি তারা আমেরিকাকে হুমকি দিতে থাকে, তবে ওয়াশিংটন তাদের ছাড়বে না।

উত্তর কোরিয়া বলছে তারা রোববার যে পারমাণবিক বোমাটি পরীক্ষা করেছে সেটি হাইড্রোজেন বোমা অর্থাৎ যেটি ধ্বংসক্ষমতার বিচারে সাধারণ পারমাণবিক বোমার চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিধর।

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে রাজী হচ্ছেন না যে বোমাটি হাইড্রোজেন বোমা। তবে তারা একযোগে স্বীকার করছেন, এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া যতগুলো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে, এটি ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর।

মাটির নিচে দশ কিমি গভীরে এই বিস্ফোরণের পর রিক্টার স্কেলে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে যা পার্শ্ববর্তী চীনের বেশ কিছু এলাকাতেও ভূকম্পনের সৃষ্টি করে।

বিস্ফোরণের পর ভূকম্পনের মাত্রা বিবেচনা করে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটির শক্তি ছিল ১০০ কিলোটনের মতো।

অর্থাৎ ১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকি শহরে আমেরিকার যে পারমাণবিক বোমা তাৎক্ষনিক ৭০,০০০ মানুষের জীবন নিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার আজকের বোমটির শক্তি তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ভিপিন নারাং ব্লুমবার্গ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, বোমাটি হাইড্রোজেন বোমা হোক আর না হোক, এটি দিয়ে আমেরিকার যেকোনো বড় একটি শহর পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলা সম্ভব।

এখন পর্যন্ত ভয়াবহতম পারমাণবিক পরীক্ষা ছিল রাশিয়ার।
উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটি যদি হাইড্রোজেন বোমা হয়ও, তার পরও এখন পর্যন্ত বিশ্বে ভয়াবহ যেসব পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর সাথে এটির তুলনা কতটা করা যায়?
এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে মানুষের সৃষ্ট সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ হয়েছিল ১৯৬১ সালে যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন 'জার বোমবা' বা 'বোমার রাজা' নামে একটি পারমানবিক বোমা পরীক্ষা করে।

ঐ হাইড্রোজেন বোমার শক্তি ছিল ৫০,০০০ কিলো টন।
আর্কটিক অঞ্চলে নোভায়া জেমলিয়া নামে দ্বীপপুঞ্জের যে জায়গায় ঐ দানবীয় বোমাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার ৩৫ মাইলের মধ্যে সমস্ত ভবন, স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
এমনকী শত শত কিলোমিটার দুরেও ভবনে ক্ষতি হয়েছিল। ফিনল্যান্ড, নরওয়ের মতো অনেক দুরের দেশগুলোতেও বহু বাড়ির জানালার কাচ ভেঙ্গে পড়েছিল।

তবে বিশ্বের প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫২ সালে, প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপে। সেটির শক্তি ছিল ১০,০০০ কিলোটন।
৫০ কিমি দূরে একটি জাহাজে বসে সেই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মার্কিন একজন পদার্থ বিজ্ঞানী হ্যারল্ড অ্যাগনিউ। তিনি পরে বলেছিলেন - "অত দূরে বসে যে তাপ সেদিন বোধ করেছিলাম তা জীবনেও ভুলবো না। ক্রমাগত তাপ আসছিল। ভীতিকর এক অভিজ্ঞতা ছিলো সেটি।"

পরীক্ষার পর ধোঁয়ার কুন্ডুলি ৫০ কিমি উপরে উঠে গিয়েছিল, ছড়িয়ে পড়েছিল ১০০ কিমি পর্যন্ত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষা ছিল ১৯৫৪ সালে ঐ মার্শাল দ্বীপেরই বিকিনি অ্যাটল এলাকায়। শক্তি ছিল ১৫০০০ কিলোটন। পরীক্ষার পর ১১,০০০ কিমি পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিলো।

শত শত বহু মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, যারা আর কখনই বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

আপনার মন্তব্য