১০ দিনে ৯০ হাজার রোহিঙ্গার প্রবেশ

এত রোহিঙ্গা আশ্রয় দেয়া সংকটজনক হয়ে উঠবে: জাতিসংঘ

rohinga
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা পুরুষদের দেখা মাত্রই গুলি ও নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ, গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগের মধ্যে প্রাণভয়ে গত ১০ দিনে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এই হারে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসতে থাকলে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া সংকটজনক হয়ে উঠবে। জটিল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

এখনো অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পথে রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী। স্কুল, মাদ্রাসা, খোলাস্থানে তারা আশ্রয় নিচ্ছে। রেডক্রিসেন্ট বলছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডের তন্দু এলাকায় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্তা সেলিম আহমেদ।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের হত্যা করে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। প্রাণভয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ঢুকতে থাকে। তবে মিয়ানমার সরকার বলছে, এই ঘটনার জন্য ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিরা’ দায়ী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি চৌকিতে হামলা হয়েছে। এই সব হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করে চালানো সেনা অভিযানে কমপক্ষে ৪০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, কক্সবাজার সীমান্তে থাকা জাতিসংঘের কর্মীদের হিসাবমতে ২৫ আগস্টের পর গত ১০ দিনে বাংলাদেশে ৯০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঢুকেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও রাখাইনে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢোকে। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে।

চার দিন আগে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন মোহাম্মদ হুসেন (২৫)। তিনি বলেন, ‘মাথা গোঁজার কোনো জায়গা পাচ্ছি না। আমাদের খাবার নেই। নারীরা রাস্তার পাশে সন্তান জন্ম দিচ্ছে। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না।’

কক্সবাজারের বালুখালীতে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি শিবির রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে এই শিবিরের পরিসর অনেক বেড়েছে। তবে অস্থায়ী ঘরে সেখানে খুব কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি একে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ফোন করে তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার অঙ্গীকার করেন।

আপনার মন্তব্য