ফিচার ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

eidul azha
ছবি : প্রতীকী

বাড়ি-আসবাবপত্র ঝাড়পোঁছ, মাংস গোছানো আর রান্নার কাজ ছাড়াও ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়নের ব্যাপারতো থাকেই। এতদিক দ্রুত সামলাতে জানা চাই কিছু কৌশল।

এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের 'সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ’ বিভাগের প্রভাষক ইফফাত জাহান।

তিনি বলেন, “অতিথি আপ্যায়ন করতে মজাদার খাবার আয়োজন করার পাশাপাশি ঘর, আসবাব ও তৈজসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া পরিবেশন সুন্দর হলে যে কোনো খাবারই অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগে ও খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায়।

ঘরের সৌন্দর্য

কোরবানির ঈদে কাজের চাপ থাকে বেশি। তাই ঈদের আগেই ঘর গোছগাছের কাজ সেরে নেওয়া উচিত। ঘর পরিষ্কার করা, নতুন কোনো আসবাব আনার হলে আগে থেকেই তার ব্যবস্থা করে রাখা, সৌন্দর্যবর্ধক কোনো গাছ, সো-পিস ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজাতে চাইলে তার পরিকল্পনা করা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে ফেলা ইত্যাদি কাজগুলো করে ফেললে ঈদের আগ মুহূর্তে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সুগন্ধির ব্যবস্থা করা বেশ মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। কোরবানির ঈদে চারপাশে মাংস ও রক্তের গন্ধ থাকে। তাই এই ধরনের দুর্গন্ধ থেকে ঘরের পরিবেশ বাঁচানোর জন্য কাঁচাফুল ও এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

আসবাবপত্র

ঘরে নতুন আসবাবের ব্যবস্থা না করেও ঘরের সাজে পরিবর্তন আনতে পারেন 'সেটিং চেঞ্জ' করে। অর্থাৎ, আসবাব পত্রের বিন্যাসের পরিবর্তনও ঘরের চেহারা পরিবর্তনে বেশ সহায়তা করে।

ঘরে নতুন কোনো সো-পিস, ফুলদানি, ঝুলন ইত্যাদি ছোটখাট জিনিস রাখতে পারেন। এগুলো ঘরে উৎসবের আমেজ বাড়াতে সাহায্য করে।

তাছাড়া নতুন পর্দা, বিছানার চাদর, টেবিল কভার ইত্যাদির মধ্যে সামঞ্জস্যতাও ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। তাই ঈদের দিনে ঘরের শোভা বাড়াতে নিজের মনের মতো করে ঘর সাজিয়ে নিন।

তৈজস

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন তৈজস অতিথি আপ্যায়নের আমেজ বাড়িয়ে দেয়। উৎসবে রঙিন পাত্রে খাবার পরিবেশন করুন, দেখতে ভালো লাগবে। পাত্রের আকারের ভিন্নতাও অতিথির কাছে আপনার রুচির প্রকাশ ঘটাতে সাহায্য করবে।

আপ্যায়নের পর পাত্র ঠিকভাবে পরিষ্কার করে রাখুন যেন তা পরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা না হয়। তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হলে পাত্রে তেল চিটচিটেভাব থেকে যায়। তাই হালকা গরম পানি, ভিম ইত্যাদি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। সম্ভব হলে হালকা গরম পানির মধ্যে লেবুর রস চিপে নিন, এটা পাত্রের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও চিটচিটেভাব দূর করতে সাহায্য করে।

পরিবেশনে ভিন্নতা

যে খাবার দিয়েই আপ্যায়ন করা হোক না কেনো পরিবেশনে সামান্য একটু ভিন্নতা এনে অতিথিদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করা যায়। তাছাড়া আপনি যে অতিথিদের আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন সেটাও ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়।

শরবত পরিবেশন করলে গ্লাসের উপরে বা শরবতের উপরে পাতলা করে লেবু বা কমলার টুকরা গেঁথে দিতে পারেন। সালাদের উপরে টমেটো বা শসা কেটে ফুল বানাতে বেশি ঝামেলা মনে হলে, লেটুসপাতা, লেবুকুচি, কাঁচামরিচ ইত্যাদি দিয়ে পরিবেশনের কাজটা চালিয়ে নিতে পারেন।

উৎসবে অতিথি আপ্যায়নে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য আগ থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা বেশি ফলপ্রসূ।

আপনার মন্তব্য