বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

ধর্মগুরু রাম রহিম সিং। ফাইল ছবি

দুই অনুসারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের আলোচিত ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সিবিআই-এর একটি বিশেষ আদালত শুক্রবার এ রায় দিয়েছেন। আগামী সোমবার তার সাজা ঘোষণা করা হবে। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে রাম রহিমের সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।এখানেই শেষ নয়, গুরমিত রাম রহিমের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ৪০০ পুরুষ ভক্তের লিঙ্গ কর্তন বা নপুংসক করিয়েছিলেন। 

নপুংসক হলে ঈশ্বরের কাছাকাছি যাওয়া যাবে- এই প্রলোভন দেখিয়ে তাদের অণ্ডকোষ নির্মূল করিয়েছিলেন বলে ২০০২ সালে ভারতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদটি ফলাও করে প্রকাশ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবা রাম রহিমের আশ্রমের ভেতর প্রতিষ্ঠিত একটি হাসপাতালে এই লিঙ্গ কর্তন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০০০ সালে গণহারে নপুংসক করার কাজ শুরু হলেও এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে ২০০২ সালে। তিনি ৪০০ পুরুষকে নিজেদের লিঙ্গ কর্তনে উৎসাহিত করেন। কারণ হিসেবে তিনি তখন বলেছিলেন, এতে সৃষ্টিকর্তার সরাসরি সান্নিধ্য পাওয়া যাবে।

দামি কাপড় ও গয়না পরার কারণে রাম রহিম ‘গুরু অব ব্লিং’ নামেও পরিচিত। দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এগুলো হলো ‘মেসেঞ্জার অব গড (এমএসজি)’ ও এর সিক্যুয়েল ‘এমএসজি২’।

২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরমিত রাম রহিম সিং-এর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্বজুড়ে তার পাঁচ কোটির বেশি ভক্ত রয়েছে। আধ্যাত্মিক সংগঠন ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান তিনি।

সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) জোড়া ধর্ষণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ভয়াবহ এই ঘটনার খবর জানতে পারেন। তারা ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন। হানস রাজ চৌহান নামে এক ভুক্তভোগী সিবিআই কর্মকর্তাদের এই তথ্য দেন।

গুরমিত সিং-এর আশ্রমে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিয়ে আসেন রাম চরণ ছত্রপতি নামে হরিয়ানার এক সাংবাদিক। পরে তাকে রাম রহিমের নির্দেশে তার ভক্তরা হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রায় ১৫ বছর আগে রাম রহিমের এক সাবেক নারী অনুসারী এ মামলা করেছিলেন। ওই নারীর অভিযোগ, হরিয়ানার শহর সিরসায় দেরা সাচা সৌদা গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে রাম রহিম তার ওপর যৌন নির্যাতন করেন। এ মামলার পর রাম রহিমের অজস্র অনুসারী ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। ১০ বছর ধরে প্রায় ২০০টি শুনানির পর এ মামলার রায় দেয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে অসংখ্যবার উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারকাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য